ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ছলিমাবাদ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মুছা মিয়াকে (আবু মুসা) গলা কেটে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছলিমাবাদ ইউনিয়নের হোসেনপুর-পাঠামারা জোয়ারার বিলে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বালু উত্তোলন ও ড্রেজার ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতার নৃশংস মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত: বিলের মধ্যে রক্তাক্ত মরদেহ
নিহত মো. মুছা মিয়া সলিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছলিমাবাদ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ জানায়, মুছা মিয়া কিছুদিন ধরে হোসেনপুর-পাঠামারা জোয়ারার বিলে শেলোচালিত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছিলেন। এই বালু উত্তোলন ও ড্রেজার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় কিছু পক্ষের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব চলছিল।
রবিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা মুছা মিয়াকে ঘটনাস্থলে একা পেয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁকে গলা কেটে এবং কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হোসেনপুর বিলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী মুছা মিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাঁর বাড়িতে খবর দেয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছুটে এসে তাঁকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশের প্রাথমিক অবস্থান ও তদন্ত প্রক্রিয়া
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জামিল খান হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় খবর পাই হোসেনপুর গ্রামে একজনের মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সাবেক ইউপি সদস্য আবু মুসার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ।’
ওসি হাসান জামিল খান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, মুছা মিয়ার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের কারণ, জড়িত ব্যক্তি এবং ড্রেজার ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া ও বিচার দাবি
আওয়ামী লীগ নেতা মুছা মিয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাঁরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়।
মুছা মিয়ার হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, রাজনৈতিক পদমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় আধিপত্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে একজন ব্যক্তি কতটা ঝুঁকির মুখে থাকতে পারেন। এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত এবং প্রতিশোধের রাজনীতির জন্ম দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুরে আওয়ামী লীগ নেতা মো. মুছা মিয়ার গলা কেটে হত্যা আবারও স্থানীয় রাজনীতিতে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা এবং বালু উত্তোলনের অভিশাপকে তুলে ধরল। এই হত্যাকাণ্ডটি কেবল একটি রাজনৈতিক হত্যা নয়, এটি ক্ষমতা, অর্থ এবং স্থানীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নৃশংস লড়াইয়ের ফল। পুত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে সায়েম নামের যে যুবকের নাম এসেছে, পুলিশ তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সহিংসতা রোধে সহায়ক হতে পারে।
এম আর এম – ২৪৩৭,Signalbd.com



