গাজার মানুষদের ঈদ: বোমার ধ্বংসস্তূপের ভেতর জীবনযুদ্ধ

পবিত্র ঈদুল ফিতর বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের জন্য আনন্দের দিন হলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি আরেকটি বেদনার উপলক্ষ। ইসরায়েলি হামলার মধ্যে গাজাবাসীর জন্য এটি হবে দ্বিতীয় ঈদ, যেখানে ঈদ উদযাপনের কিছুই নেই।
গাজায় ঈদের বাস্তবতা
ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খাদ্য, পানি, ওষুধের চরম সংকটে রয়েছে মানুষ। ১ মার্চ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে আবারও গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়ায় লাখো মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ
ফিলিস্তিনিরা ভেবেছিলেন, রোজার শেষে হয়তো শান্তি ফিরে আসবে। কিন্তু ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে। ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় ১১ দিনে ৮৯০ জন নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
ত্রাণ ও মানবিক সংকট
ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না আর ধ্বংসস্তূপে বসবাস করা মানুষদের দুর্দশা আজকের ঈদকেও বিষাদে রূপান্তরিত করেছে।
গাজার ওপর নতুন হামলা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত একজনকে হত্যা করেছে। হামাস এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে।
যেখানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ঈদের আনন্দে মেতে উঠছে, সেখানে গাজার মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই মানবিক সংকটের সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।