বিশ্ব

ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়ার চাপ দিচ্ছে সরকার: দাবি পিটিআই নেতার

Advertisement

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ইমরান খানকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর গুজব সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতা ও সিনেটর খুররম জিশান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইমরান খান জীবিত আছেন এবং বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী অবস্থায় রয়েছেন। একইসাথে সিনেটর খুররম জিশান গুরুতর অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইমরান খানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে তাঁকে জেলের ভেতর নির্জন কারাবাসে (আইসোলেশনে) রেখেছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। এই দাবি পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কারাবন্দী নেতার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

মৃত্যুর গুজবের অবসান ও বর্তমান অবস্থান

সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে, রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীদের দেখা করতে না দেওয়ায় এই গুজব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পিটিআই নেতা খুররম জিশান আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুজবের অবসান ঘটিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি— তিনি জীবিত আছেন এবং আদিয়ালা জেলেই রয়েছেন। তিনি শারীরিকভাবে ভালো আছেন।’ এই নিশ্চয়তা পিটিআই কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিলেও, তাদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। কারাবন্দী নেতার শারীরিক সুস্থতার সংবাদ দলের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

নির্জন কারাবাস ও দেশ ছাড়ার কৌশল

পিটিআই সিনেটর খুররম জিশান অভিযোগ করেছেন যে, সরকার ইমরান খানের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছে। আর এই ভয় থেকেই তারা তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে চাপ প্রয়োগ করছে। তিনি দাবি করেন, ‘ইমরান খানকে আইসোলেশনে রেখে তাঁকে দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

তাঁর মতে, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইমরান খানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছে। সেই সমঝোতার প্রস্তাব হলো, ইমরান খান যদি পাকিস্তান ছেড়ে বিদেশে চলে যান এবং সেখানে গিয়ে চুপচাপ থাকেন, তবে তাঁকে কিছু সুবিধা দেওয়া হবে বা ছাড় দেওয়া হবে। তবে খুররম জিশান মন্তব্য করেন, ‘ইমরান খান এমন চুক্তিতে রাজি হওয়ার মানুষ নন। তিনি যে ধরনের নেতা, তিনি কখনোই এটি মেনে নেবেন না।’ এই বক্তব্য প্রমাণ করে, ইমরান খান দেশের ভেতরেই রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়ার চাপ দিচ্ছে সরকার: দাবি পিটিআই নেতার
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়ার চাপ দিচ্ছে সরকার: দাবি পিটিআই নেতার

ছবি ও ভিডিও প্রচারে নিষেধাজ্ঞ

পিটিআই নেতা অভিযোগ করেন, ইমরান খানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রচারে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ভীত। তাদের আশঙ্কা, ইমরান খানের সামান্য ছবি বা ভিডিও সামনে এলেই তা জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন ও আন্দোলনের গণ্ডগোল তৈরি করতে পারে।’

সরকার তাঁর জনপ্রিয়তা এবং জনসমর্থনকে ভয় পাচ্ছে বলেই তাঁর সাম্প্রতিক ছবি বা ভিডিও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ উঠেছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কেও সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হচ্ছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিবারের দুশ্চিন্তা

ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর পরিবার, আইনজীবী, এমনকি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদেরও গত প্রায় এক মাস ধরে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন খুররম জিশান। তিনি এই ঘটনাকে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁর বোনদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়েছে।

সিনেটরের ভাষায়, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রায় এক মাস ধরে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তাঁর পরিবার, আইনজীবী, এমনকি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।’ পরিবারের সদস্যরা এই কারণে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং একজন কারাবন্দী নেতার মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন।

পিটিআই-এর ভবিষ্যৎ ও তারুণ্যের সমর্থন

ইমরান খানের কারাবাস সত্ত্বেও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মনে করেন সিনেটর খুররম জিশান। তিনি বলেন, ‘বন্দী থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।’ পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পিটিআই-এর শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে এবং তাঁর আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি মনে করেন, এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতি মানুষের ভেতরকার সেরাটা বের করে আনে। যারা সত্যিকার অর্থে এই মূল্যবোধে বিশ্বাস করে, তারা এখন সামনে এগিয়ে আসছে। এই তরুণ সমর্থন পিটিআই-কে সামনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে টিকে থাকার প্রেরণা যোগাবে বলে তিনি মনে করেন।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা

পিটিআই নেতার এই দাবিগুলো পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একটি কারাবন্দী নেতার ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা নিয়ে শাসকগোষ্ঠীর উদ্বেগকে স্পষ্ট করে তোলে। ইমরান খানের জীবন নিয়ে গুজব দূর হলেও তাঁকে দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি গুরুতর মানবাধিকার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তাঁর শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং তাঁর আইনি ও পারিবারিক অধিকার বজায় রাখা আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমরান খান যেহেতু আপোস করতে নারাজ, তাই তাঁর কারাবাস দীর্ঘায়িত হওয়ার এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এম আর এম – ২৪২৬,Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button