বিশ্ব

এবার পাকিস্তানে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৪

Advertisement

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশ আবারও ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে কেঁপে উঠেছে। শনিবার ভোরের দিকে স্থানীয় সময় প্রায় ৫:৩০ মিনিটে লোরালাই ও এর আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে, আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (National Seismic Monitoring Centre – NSMC) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৪। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল লোরালাই শহরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে। তবে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সিবি (CB) এলাকায় ৩.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ভূমিকম্পের কারণ ও প্রভাব:

পাকিস্তান একটি ভূ-সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশ, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং হিমালয় ও কাশ্মীর অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের তলদেশে সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট রয়েছে। এ কারণে এই অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প সময়-সাপেক্ষে হওয়া স্বাভাবিক।

বেলুচিস্তান প্রদেশের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “লোরালাই ও আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রায়শই ছোট ছোট কম্পন অনুভূত হয়। সাধারণত এগুলো প্রাকৃতিকভাবে ঘটে এবং বড় ধরনের ধ্বংসের কারণ হয় না। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন থাকা এবং জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া:

ভোরের এই কম্পনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “হঠাৎ ঘর কেঁপে উঠলে খুব ভয় লাগে। আমরা সবাই বাইরে বেরিয়ে এসেছি। সৌভাগ্যক্রমে কারো কোনো ক্ষতি হয়নি।”

শিক্ষক, চিকিৎসক ও সরকারি কর্মকর্তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেন। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি নম্বর সক্রিয় করেছে যাতে বাসিন্দারা সমস্যায় পড়লে সহজে সাহায্য পেতে পারে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (Provincial Disaster Management Authority – PDMA) জরুরি প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা বাসিন্দাদের সতর্কতা জারি করেছে এবং ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত টিম মোতায়েন করেছে।

পাকিস্তানে ভূমিকম্পের ইতিহাস:

পাকিস্তান প্রায়ই ভূমিকম্পের কবলে পড়ে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশ ও কাশ্মীর অঞ্চল ভূমিকম্প-প্রবণ।

  • ২০০৫ সালের কাশ্মীর ভূমিকম্প: রিখটার স্কেলে মাত্রা ৭.৬, প্রায় ৮০,০০০ মানুষ নিহত।
  • ২০১৩ সালের বেলুচিস্তান ভূমিকম্প: কওসার ও আশপাশে প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত।
  • ২০২৫ সালের চলতি বছর: এ পর্যন্ত লোরালাই সহ বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ছোট কম্পনও ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, স্কুল, হাসপাতাল ও জনজীবনে ভূমিকম্প-প্রতিরোধক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

নিরাপত্তা ও সচেতনতা:

  • বাসিন্দাদের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের প্রস্তুতি রাখা।
  • ভূমিকম্প হলে স্থিতিশীল স্থানে নিরাপদ অবস্থান নেওয়া।
  • উচ্চ দালান বা পুরনো ভবন এড়িয়ে চলা।
  • জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ও পানি সংরক্ষণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, “যদিও এই কম্পনগুলো ক্ষুদ্র মাত্রার, তবে এটি প্রাকৃতিক সংকেত হিসেবে দেখা যায়। প্রতিটি পরিবারকে জরুরি প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারের ভূমিকম্প মনিটরিং সিস্টেম এবং সতর্কতা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ ব্যবহার করা উচিত।”

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া:

পাকিস্তানের ভূমিকম্প সংক্রান্ত পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারীরা মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্প্রতি, ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সহায়তা সংস্থা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

বেলুচিস্তান প্রদেশের লোরালাইসহ আশপাশের এলাকা বাসিন্দাদের জন্য এই ধরণের ভূমিকম্প নতুন নয়। তবে প্রতিটি কম্পনই সতর্ক থাকার সংকেত দেয়। স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী, স্কুল, হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাসিন্দারা একে অপরকে সতর্ক করছেন। পাকিস্তানে ভূমিকম্পের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

MAH – 14038 I Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button