বিশ্ব

ঘোষণার পরই ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরে হামলা ইসরাইলের

Advertisement

ঘোষণা দিয়ে দ্রুত বন্দর খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পরই ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরে ইসরাইলি বিমান হামলা শুরু হয়েছে। হামলার ফলে বন্দরের অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীরা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।

ঘটনার বিস্তারিত

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর হোদেইদা বন্দরে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার কয়েক ঘন্টা আগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এলাকার লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়।

ইসরাইলি সরকারের দাবি, হুদিরা ইরান থেকে অস্ত্র সংগ্রহের জন্য এই বন্দর ব্যবহার করছে। তাই তারা বন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনি হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা মোকাবেলায় সক্রিয় রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদ্রাই একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন, যেখানে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্দরে উপস্থিত সকলকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে হবে।

ইয়েমেন এবং ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি ও গাজার ওপর ইসরাইলি হামলা। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীরা ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

গত মাসে ইসরাইলি বিমান হামলায় ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতি সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী নিহত হন। ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী নিয়মিতভাবে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে।

প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

এই হামলার ফলে হোদেইদা বন্দরের বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বিগ্ন যে, এ ধরনের সংঘাত এলাকায় আরও মানবিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

ইসরাইলি হামলা হুতি বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বন্দরের ক্ষয়ক্ষতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞ মতামত

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরে হামলা ইরান-হুতি ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করবে। এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “ইসরাইলি হামলা হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা কমানোর চেষ্টা, তবে এতে সাধারণ মানুষদের ওপর প্রভাব ফেলবে।”

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে মানবিক সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

পরিসংখ্যান

  • মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর: হোদেইদা বন্দরে ইসরাইলি বিমান হামলা
  • হামলার আগে: স্থানীয়দের দ্রুত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ
  • প্রাথমিক রিপোর্ট: বন্দরে ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহত ৩–৫ জন
  • সাম্প্রতিক সংঘাত: হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইসরাইলি প্রতিশোধমূলক অভিযান

এই সংঘাতের ধারা ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অব্যাহত, যা ফিলিস্তিনি সংহতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ।

ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরে ইসরাইলি হামলা চলমান সংকটকে আরও গভীর করেছে। হামলার আগে স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হলেও, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বিগ্ন যে, ভবিষ্যতে মানবিক সংকট এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাতের ভবিষ্যত নির্ভর করছে হুতি বিদ্রোহী ও ইসরাইলের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার ওপর। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে, বন্দরের কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।

এম আর এম – ১৩৭৭,Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button