বিশ্ব

সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা, ইসরাইলকে তুরস্কের হুঁশিয়ারি

Advertisement

তুরস্ক সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার জন্য সরাসরি ইসরাইল ও কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওয়াইপিজিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আঙ্কারায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা বিনষ্ট করে ইসরাইল নিজের নিরাপত্তা অর্জন করতে পারবে না। সিরিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

তুরস্ক-সিরিয়ার যৌথ বৈঠক ও ঘোষণা

বুধবার সিরিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী আসাদ আল শাইবানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল মুরহাফ আবু কাসরা তুরস্ক সফরে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন সিরিয়ার গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন সালামেহ। আঙ্কারায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা অংশ নেন।
এই বৈঠকে উভয় দেশ সিরিয়ার রাজনৈতিক ঐক্য, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেয়।

ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে তুরস্কের অভিযোগ

হাকান ফিদান বলেন, ইসরাইল বহুদিন ধরে সিরিয়ায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছে। তার অভিযোগ, সিরিয়াকে দুর্বল করার মাধ্যমে ইসরাইল আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইসরাইলের এই কৌশল শেষ পর্যন্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
তুর্কি মন্ত্রীর মতে, কোনো দেশ প্রতিবেশীর স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বরং পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও শান্তিই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার পথ।

ওয়াইপিজি প্রসঙ্গে তুরস্কের অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান মার্কিন-সমর্থিত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওয়াইপিজিকেও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠী উত্তর সিরিয়ায় বিভাজন ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তুরস্কের দাবি, ওয়াইপিজি হলো পিকেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সিরিয়ান শাখা, যারা গৃহযুদ্ধের সময় উত্তর সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল দখল করে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পায়।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আঙ্কারা কোনো দখলদারিত্ব চায় না, তবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও নতুন সরকার

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে দামেস্কে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা নেয় এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু করে। তুরস্ক এই নতুন সরকারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
আঙ্কারা সিরিয়াকে রাজনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে, বিশেষ করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।

দক্ষিণ সিরিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাত

সম্প্রতি সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ গোষ্ঠী ও বেদুইন উপজাতির মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এই সংঘাতে ইসরাইলি সামরিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয়।
যদিও ১৯ জুলাই থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। তুরস্ক মনে করে, বাইরের শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের এই সতর্কবার্তা শুধুমাত্র ইসরাইলের উদ্দেশ্যেই নয়, বরং সিরিয়ার স্থিতিশীলতায় হস্তক্ষেপকারী সব পক্ষের জন্য প্রযোজ্য। তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সিরিয়ার পুনর্গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে দেশটি আবারও সহিংসতার দোলাচলে পড়তে পারে।

সারসংক্ষেপ  

তুরস্ক ও সিরিয়ার এই যৌথ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। আঙ্কারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিনষ্টের যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা দৃঢ় অবস্থান নেবে।
এখন দেখার বিষয়, ইসরাইল তুরস্কের এই হুঁশিয়ারির প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সিরিয়ার স্থিতিশীলতা রক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা কতটা কার্যকর হয়।

এম আর এম – ০৮৪২, Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button