বিশ্ব

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ইন্দোনেশিয়া

Advertisement

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম পাপুয়া প্রদেশে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ২৪ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থল ছিল আবেপুরা শহর থেকে প্রায় ১৯৩ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্য

বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত তীব্রভাবে অনুভূত হয়, কারণ উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। পশ্চিম পাপুয়া অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে থাকে।

USGS এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কম্পন আশেপাশের কয়েকটি দ্বীপেও অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, অনেকেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন।

ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পপ্রবণ ভৌগলিক অবস্থান

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগ্নেয় মেখলা অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলে টেকটনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়া খুবই সক্রিয়, যা প্রায়ই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। দেশটিতে প্রায় ১৩০টির বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।

ভৌগলিকভাবে এই অঞ্চলের অবস্থান এমন যে, প্যাসিফিক, ইউরেশিয়ান ও ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়, যা মাঝেমধ্যেই বড় ভূমিকম্পে রূপ নেয়।

ভূমিকম্পের ইতিহাস

ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে ভূমিকম্প কোনো নতুন ঘটনা নয়।

  • ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুলাওয়েসি দ্বীপে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।
  • ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়।
  • ২০০৪ সালে আচেহ প্রদেশে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই সুনামি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি।

প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের পরপরই পশ্চিম পাপুয়ার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। কিছু এলাকায় যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও দ্রুতই পুনঃস্থাপন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জরুরি উদ্ধার দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হবে।

পশ্চিম পাপুয়ার গভর্নর জানিয়েছেন, “যদিও কোনো বড় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উদ্ধার ও ত্রাণ প্রস্তুতি জারি রাখা হয়েছে।”

ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা

ইন্দোনেশিয়া সরকার দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য জনসচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। স্কুল, অফিস ও জনসমাগমস্থলে নিয়মিত মহড়া পরিচালনা করা হয়, যাতে ভূমিকম্পের সময় মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় খোলা জায়গায় চলে যাওয়া, শক্তপোক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া, এবং বিদ্যুতের তার, গ্যাস লাইন বা উঁচু স্থাপনার কাছ থেকে দূরে থাকার মতো সতর্কতা মেনে চলতে হবে।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও সতর্কবার্তা

যদিও এ ঘটনায় সুনামির আশঙ্কা নেই, তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, প্রধান ভূমিকম্পের পর আফটারশক হতে পারে। এই আফটারশকগুলো কখনো কখনো প্রধান ভূমিকম্পের চেয়েও বেশি ক্ষতি করতে পারে, বিশেষত যদি দুর্বল স্থাপনা থাকে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, আফটারশক পর্যবেক্ষণে বিশেষ টিম কাজ করছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এম আর এম – ০৮১৮, Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button