বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ১১৯ জনের, নিখোঁজ অন্তত ১৬০

Advertisement

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে হঠাৎ বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৯ জনে পৌঁছেছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ১৬০ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক বাড়িঘর, অবকাঠামো এবং জীবনযাত্রা। উদ্ধার কার্যক্রমে চলছে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুরের ব্যবহার।

ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত

টেক্সাসের মধ্যাঞ্চলীয় কের কাউন্টিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শেরিফ ল্যারি লেইথা জানান, এই কাউন্টিতে ৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৬ জন শিশু। বিশেষ করে একটি গ্রীষ্মকালীন যুব ক্যাম্পে থাকা ২৭ জন কিশোরী এবং কয়েকজন পরামর্শদাতা বন্যায় নিখোঁজ হন।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, কাদামাটি, গাছপালা, ভাঙা ঘরবাড়ি এবং নদীর পাড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অনুসন্ধান চলছে। ২০০০ জনের বেশি উদ্ধারকারী, পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মী এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

প্রযুক্তি ও অনুসন্ধান পদ্ধতি

উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর। টেক্সাস গেম ওয়ার্ডেনদের মুখপাত্র বেন বেকার বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তবুও উদ্ধারকর্মীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অনেক দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, তবে কিছু অঞ্চল এখনো বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে।

৪ জুলাই হঠাৎ করে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণের কারণে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। গুয়াদালুপ নদী ২০ ফুটেরও বেশি উঁচুতে গিয়ে প্রবাহিত হয়, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই অঞ্চলে অতীতে এমন বন্যা দেখা গেলেও এবারের ভয়াবহতা নজিরবিহীন।

সরকার ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানান, নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে। “আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং জীবিতদের উদ্ধার করা,”— বলেন গভর্নর।

তিনি আরও বলেন, “এই দুর্যোগে যারা হারিয়ে গেছেন, তাদের স্মরণে আমরা বিশেষ উদ্যোগ নেব।”

তবে প্রেসিডেন্টের দুর্যোগ তহবিল সংকোচনের কারণে বন্যা সতর্কতা ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। শেরিফ লেইথা বলেন, “এখন দোষ দেওয়ার সময় নয়। আমাদের পুরো মনোযোগ নিখোঁজদের খোঁজে।”

প্রতিবেশী অঞ্চলের অবস্থা

নিউ মেক্সিকোর রুইডোসো শহরেও আকস্মিক বন্যায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নদীর পানি অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ আটকা পড়েছেন। মার্কিন আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা

  • মোট মৃত্যু: ১১৯
  • নিখোঁজ: প্রায় ১৬০ জন
  • সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: কের কাউন্টি
  • শিশু ও কিশোরী নিহত: অন্তত ৩৬
  • যুব ক্যাম্পে নিখোঁজ: ২৭ কিশোরী ও বেশ কয়েকজন কাউন্সেলর
  • উদ্ধারকর্মী মোতায়েন: প্রায় ২০০০+

সারসংক্ষেপ  

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যে আকস্মিক বন্যার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৯ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ১৬০ জন। ৪ জুলাইয়ের প্রবল বর্ষণের ফলে গুয়াদালুপ নদীর তীরবর্তী এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনো চলছে উদ্ধার তৎপরতা, তবে আবহাওয়ার অবনতি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এই দুর্যোগের পর প্রশ্ন উঠেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার যথাযথ প্রস্তুতি ছিল কি না?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের যুগে এমন দুর্যোগে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত প্রস্তুতি ছাড়া সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

এম আর এম – ০২৭৯, Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button