লোহিত সাগরে ইউরোপীয় সামরিক অভিযানের সময় চীনের একটি যুদ্ধজাহাজ allegedly জার্মান গোয়েন্দা বিমানের দিকে লেজার নিক্ষেপ করেছে। বার্লিন এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঘটনার বিস্তারিত: কী ঘটেছে?
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ASPIDES অভিযানে অংশ নেয়া একটি জার্মান গোয়েন্দা বিমান ইয়েমেন উপকূলে টহলরত অবস্থায় ছিল। ঠিক সেই সময়, চীনের একটি ফ্রিগেট থেকে বিমানটির দিকে লেজার রশ্মি ছোড়া হয় বলে দাবি করা হয়।
চীনের এই লেজার আক্রমণ কোনও ধরনের পূর্ব ইঙ্গিত ছাড়াই করা হয়েছে বলে জানানো হয় জার্মান সূত্রে। তারা বলছে, চীনা নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিমানটির সাথে জরুরি ফ্রিকোয়েন্সিতে যোগাযোগ না করেই এমন পদক্ষেপ নেয়।
এর আগেও কি এমন কিছু ঘটেছে?
আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামরিক মহড়া ও টহলের সময় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বা ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরে, চীনের আগ্রাসী অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে।
লেজার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের নজরদারি বিমানে ব্যাঘাত ঘটানো এক নতুন কৌশল — যা আগে বিশেষভাবে মার্কিন বিমান বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ চীন সাগরে। এবার সেই কৌশল লোহিত সাগরেও প্রয়োগ হওয়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত হতে পারে।
বার্লিন ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ
বার্লিনের ভাষ্যমতে, “এই ঘটনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটি আমাদের নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইউরোপীয় অভিযানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।”
চীনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বার্লিন সরকার কঠোরভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও ভাগাভাগি করা হয়েছে।
এদিকে চীনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার পেছনে চীনের বার্তা স্পষ্ট— পশ্চিমা শক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখা হচ্ছে এবং চীন নিজের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের কোনও সুযোগ হাতছাড়া করছে না।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, “চীন এই মুহূর্তে কেবল দক্ষিণ চীন সাগর নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায়ও প্রভাব বিস্তার করছে। লোহিত সাগরে এমন এক আক্রমণ তার অংশ বলেই মনে হচ্ছে।”
লেজার ব্যবহারের আগের নজির
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পূর্বে জানিয়েছিল, ২০১৮ সালে চীনের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন পাইলটদের লক্ষ্য করে লেজার ছোঁড়া হয়েছিল। তখনও পাইলটদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতির মুখে পড়ে।
এই ধরনের হামলা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ কৌশলের এক উদাহরণ হয়ে উঠছে, যা সরাসরি মানুষের প্রাণহানি না ঘটালেও সামরিক মিশনে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
“জার্মান কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা এবং অভিযান ব্যাহত করা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।” — জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সারসংক্ষেপ
লোহিত সাগরের আকাশে এক আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের সময়, চীনের এক যুদ্ধজাহাজ জার্মানির একটি গোয়েন্দা বিমানে লেজার ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন মিশনে অংশ নেয়া এই জার্মান বিমান লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঘটনায় বার্লিন কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং চীনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
জার্মান গোয়েন্দা বিমানে চীনের ‘লেজার অ্যাটাক’ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিল। বিষয়টি সামরিক কূটনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে গেলে তা বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি কীভাবে মোড় নেবে তা নির্ভর করছে চীনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ওপর।
এম আর এম – ০২২৬, Signalbd.com



