ক্রিকেট

ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষায় ক্রিকেটারদের দাবি: মোড়লদের ভাগ কমানো জরুরি

ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) ছয় মাস ধরে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট ৬৪টি পক্ষের মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এই প্রতিবেদনের শিরোনাম—‘ইতিহাস সুরক্ষা, বদলের পথে হাঁটা: ঐক্যবদ্ধ, সুসংহত, বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পেছনে পড়ে গেছে এবং ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে’।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য চারটি উইন্ডো

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে ক্রিকেট পরিচালনা আরও উন্নত করতে চারটি উইন্ডো তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি সংস্করণ পুনর্বিন্যাস করে দুই বছর মেয়াদি চক্রে অবনমন-উত্তরণ ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিস্তর

টেস্ট ক্রিকেটের আবেদন ধরে রাখতে দ্বিস্তরের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। শীর্ষ আট দল খেলবে প্রথম বিভাগে, এবং পরের চারটি দল খেলবে দ্বিতীয় বিভাগে। প্রথম বিভাগের শীর্ষ চার দল উন্নীত হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে।

রাজস্ব বণ্টনের ভারসাম্য

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রিকেটের মোট বৈশ্বিক রাজস্বের ৮৩ শতাংশ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় ক্রিকেটের ‘তিন মোড়ল’—ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এই ভারসাম্যহীনতা নিরসনে রাজস্ব বণ্টনের সীমা বেঁধে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ২৪টি দেশের প্রতিটির সঙ্গে সর্বনিম্ন ২ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ রাজস্ব বণ্টনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আইসিসির কাঠামো পরিবর্তন

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খেলাটির বিকাশের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। খেলোয়াড় থেকে লিগ ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অরক্ষিত। ডব্লিউসিএ গ্লোবাল গেম লিডারশিপ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যারা আইসিসি বোর্ডে বিভিন্ন রকম সুপারিশ করতে পারবে।

প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের টিকে থাকার জন্য জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। খেলাটির বৈশ্বিক পরিচালনা কাঠামো ও আইনকানুনের পরিবর্তন হলে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Related Articles

Back to top button