আঞ্চলিক

সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ পর্যটক, উদ্ধার অভিযান জোরদার

Advertisement

শনিবার দুপুরের দিকে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের কচিখালী ডিমেরচর সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ঢাকা শহরের মাহিত আব্দুল্লাহ (১৬)। পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে আসা এই কিশোর পর্যটক সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ে তলিয়ে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যান। বন বিভাগ ও কোষ্টগার্ডের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

নিখোঁজের ঘটনা ও প্রাথমিক উদ্ধারের চেষ্টা

ঢাকা জেলার মোহাম্মদপুর এলাকার শেখ সুলতান মাহমুদ আসাদের ছেলে মাহিত আব্দুল্লাহ শনিবার সকালে সুন্দরবন ঘুরতে আসেন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে আসা ৭৫ জন পর্যটক নিয়ে ‘এমভি দি এক্সপ্লোরার’ নামে একটি পর্যটকবাহী জাহাজ কচিখালীতে নোঙ্গর করেছিল।

পর্যটকেরা নৌকা যোগে ডিমেরচর সী-বিচে ঘুরতে যান। গোসলের সময় মাহিত তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ছিল, হঠাৎ করে সমুদ্রের ঢেউয়ে তিনি তলিয়ে যান। জাহাজের কর্মচারী এবং বনরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার চেষ্টা শুরু করেন, তবে মাহিতকে পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগের ও কোষ্টগার্ডের উদ্ধারের উদ্যোগ

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বনকর্মকর্তা মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানিয়েছেন, ডিমেরচরের আশেপাশে স্পীডবোট এবং স্থানীয় বনরক্ষীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। মোংলা কোষ্টগার্ডের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবন অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াস) এর সেক্রেটারি নাজমুল আজম ডেভিট জানান, জাহাজটি ঢাকা থেকে শুক্রবার ছেড়ে এসে রোববার রাতের মধ্যে খুলনায় পর্যটকদের নামিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। নিখোঁজ পর্যটক উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যেই কোষ্টগার্ডকে ডাকা হয়েছে এবং তারা ডিমেরচরের দিকে রওয়ানা হয়েছেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বন বিভাগের সতর্কতা

বন বিভাগ এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পর্যটকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। তাঁরা বলেছেন, সমুদ্রের প্রবল ঢেউ এবং জাহাজের চলাচলের জন্য পর্যটকদের নৌকা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে কচিখালী ও ডিমেরচরের মতো গভীর অঞ্চলে পর্যটকদের সতর্ক থাকা জরুরি।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে পর্যটকদের জন্য নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং উদ্ধার প্রশিক্ষণ চালানো হয়। তবে প্রাকৃতিক পরিস্থিতি সবসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তাই সচেতনতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অনুরূপ দুর্ঘটনা

সুন্দরবনের জঙ্গল ও সমুদ্র অঞ্চলে পূর্বেও পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত দুই বছরে এখানে তিনটি অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পর্যটকরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে সমুদ্রে গোসল বা নৌকাভ্রমণ করায় বিপদে পড়েছেন।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় অধিকাংশ পর্যটকই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না মানায় বিপদের মুখে পড়েছেন। বন বিভাগ এবং ট্যুর অপারেটররা নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

ডিমেরচরের স্থানীয় জেলে ও পর্যটকরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের ঢেউ এবং জোয়ারের সময়ে পর্যটকরা সতর্ক না হলে বিপদের মুখে পড়তে পারে। একজন স্থানীয় জেলে বলেন, “এখানে সমুদ্র হঠাৎ করেই গভীর হয়ে যায়। পর্যটকদের পক্ষে নিজেকে রক্ষা করা কঠিন।”

অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের আগমনকে স্বাগত জানালেও বলেন, নিরাপত্তার প্রতি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু পরিবারেই নয়, স্থানীয় পর্যটন শিল্পের জন্যও উদ্বেগের কারণ।

উদ্ধার অভিযানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বন বিভাগ ও কোষ্টগার্ড মিলে ডিমেরচর এবং কচিখালী সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নতুন কোনো তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই পরিবার ও সংবাদ মাধ্যমে জানানো হবে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে আরও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হবে।

সুন্দরবনে পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন এবং পর্যটক শিল্পের জন্য একটি সতর্কবার্তা। পরিবার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টার মধ্যে এখনও উদ্ধারকাজ চলমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও পর্যটকদের সচেতনতা বিষয়ক প্রশ্নও উঠেছে।

এম আর এম – ১৩২১,Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button