২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাবোর্ডে ছাত্রীদের অগ্রগতি দেখা গেলেও, ব্যতিক্রম সিলেট। সিলেট শিক্ষাবোর্ডে এবার পাশের হারে এগিয়ে ছেলেরা। কেমন ছিল বোর্ডভিত্তিক ফলাফল, কী বলছে পরিসংখ্যান — জানুন বিস্তারিত।
ফলাফলের বিস্তারিত চিত্র:
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সারাদেশে গড় পাশের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। এটি গত বছরের তুলনায় ১৪.৫৯ শতাংশ কম। কিন্তু সিলেট বোর্ডে পাশের হার ৬৮.৫৭ শতাংশ হলেও, ছাত্রদের পাশের হার ৬৮.৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬৮.৫৪ শতাংশ — অর্থাৎ সামান্য ব্যবধানে হলেও এগিয়ে ছেলেরা।
এই সূক্ষ্ম ব্যবধান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, যেখানে সাধারণভাবে মেয়েদের অগ্রগতি
অন্যান্য বোর্ডে কী হলো?
সারাদেশে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডের ফলাফলে দেখা গেছে:
- রাজশাহী বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পাশ — ৭৭.৬৩ শতাংশ।
- বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম — মাত্র ৫৬.৩৮ শতাংশ।
- ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ৬৭.৫১ শতাংশ।
- চট্টগ্রাম ৭২.০৭%, যশোর ৭৩.৬৯%, দিনাজপুর ৬৭.০৩%, ময়মনসিংহ ৫৮.২২%।
- মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৬৮.০৯% এবং কারিগরি বোর্ডে ৭৩.৬৩%।
এছাড়া, ১৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি এবং ৯৮৪টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
GPA-5-এ কারা এগিয়ে?
এবছর মোট ১,৩৯,০৩২ শিক্ষার্থী GPA-৫ পেয়েছে। যার মধ্যে ছাত্রীরা এগিয়ে — ৭৩,৬১৬ জন ছাত্রী এবং ৬৫,৪১৬ জন ছাত্র।
তবে বোর্ডভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, GPA-5 অর্জনে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও মাদ্রাসা বোর্ডে ছেলেরা এগিয়ে:
- কুমিল্লা: ৬.৩১% ছাত্র GPA-5, ছাত্রী ৫.৬২%
- চট্টগ্রাম: ৮.৯০% ছাত্র, ছাত্রী ৮.০৭%
- মাদ্রাসা বোর্ড: ৩.৩২% ছাত্র, ৩% ছাত্রী
গণিতে ভয়াবহ ভরাডুবি:
এসব ফলাফলে একটি বিষয় স্পষ্ট — গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার হার সর্বাধিক। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও বরিশালে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর পেছনে শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান এবং গাইডনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
সিলেট বোর্ডে গণিতে পাশের হার ৮৩.১৭% — তুলনামূলক ভালো, যা হয়তো ছেলেদের সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি:
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, সিলেট বোর্ডের এই ব্যতিক্রমী চিত্র পেছনে স্থানীয় শিক্ষা উদ্যোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বড় ভূমিকা রেখেছে।
“সিলেটে ছেলেদের এই এগিয়ে থাকা নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক, তবে তা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় — সেটাই চ্যালেঞ্জ।” — বলেন একজন শিক্ষা বিশ্লেষক।
অতীতের তুলনায় পরিবর্তন:
২০২৪ সালে যেখানে পাশের হার ছিল ৮৩.০৪%, সেখানে এবছর তা ৬৮.৪৫% — কমেছে ১৪.৫৯ শতাংশ। GPA-5-এও হ্রাস: গত বছরের তুলনায় কমেছে ৪৩,০৯৭ জন।
এটি একটি বড় ধাক্কা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এবার “ফুলিয়ে ফাপিয়ে নয়, বরং বাস্তব ফল” দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এমন কম ফলাফল দেখা গেছে।
“এবার ফুলিয়ে নয়, বরং প্রাপ্য অনুযায়ী ফলাফল দেওয়া হয়েছে, এটাই ফল কমার কারণ।” — আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি
সারসংক্ষেপ
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে পাশের হার কমে যাওয়া ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা হ্রাস পাওয়া ফলাফলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলেও, একটি ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিলেট বোর্ড। যেখানে অন্যান্য বোর্ডে মেয়েরা পাশের হারে ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে সিলেটে ছেলেরাই এগিয়ে।
সার্বিক ফলাফলে যেখানে দেশের অধিকাংশ বোর্ডে ছাত্রীদের আধিপত্য দেখা গেছে, সেখানে সিলেট বোর্ডে ছেলেদের এগিয়ে থাকা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম। প্রশ্ন হলো, এটি কি শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? নাকি শিক্ষাক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনার সূচনা?
আগামী বছরগুলোতে এই প্রবণতা যদি বজায় থাকে, তবে সেটি হতে পারে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
এম আর এম – ০২৬২,Signalbd.com


