বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ছে। চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি নতুন দল আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকায় পৌঁছাবে। এর পাশাপাশি, আগামীকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্যের মেডিকেল টিমও ঢাকায় আসবে বলে বিএনপির দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক এবং অপরিবর্তিত থাকলেও, তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের এই আগমন তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনা ও ব্রিটিশ টিমের আগমন: চিকিৎসার সমন্বয়
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নতুন দল এবং যুক্তরাজ্যের মেডিকেল টিম ঢাকায় পৌঁছানোর পর দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। এই দলগুলো মূলত খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করবে।
এই দুটি টিমের আগমন প্রমাণ করে যে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চীনের টিম আজ রাতেই পৌঁছানোর পর আগামীকাল বুধবার থেকে সরাসরি বোর্ডের সঙ্গে কাজ শুরু করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের টিমের আগমন বোর্ডের পরামর্শক্রমে তাঁর শারীরিক জটিলতাগুলোর আরও উন্নত চিকিৎসার পথ খুলতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চিকিৎসা চলছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের আগমন
এটিই প্রথম নয় যে বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসছেন। এর আগে, গতকাল সোমবারও (১ ডিসেম্বর) বিদেশি চিকিৎসকদের একটি দল ঢাকায় পৌঁছায়। তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখেন এবং মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা তাঁর চিকিৎসার মান এবং জটিলতা উভয়কেই নির্দেশ করে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সব বিষয়ে সমন্বয় করছেন। এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তাঁর জীবনরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা নিশ্চিত করছে।
খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা: সংকটজনক কিন্তু স্থিতিশীল
গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হলেও, গত কয়েক দিন ধরে তা অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁর লিভারজনিত সংকট, কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসকষ্টসহ একাধিক শারীরিক জটিলতা একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। তবে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি বর্তমানে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
উন্নত চিকিৎসা ও বিদেশে নেওয়ার জল্পনা
বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলগুলোর আগমন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এর আগে জানিয়েছিলেন, মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলেই তাঁকে বিদেশে নেওয়া হবে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও জানিয়েছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে এবং খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে চাইলে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে চীনা ও ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ টিমের পরামর্শই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে। যদি তাঁরা মনে করেন যে তাঁর বর্তমান জটিলতাগুলোর জন্য দেশের বাইরের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন, তবে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুত তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (VIP) ঘোষণা করে এসএসএফের বিশেষ নিরাপত্তা দিয়েছে।
হাসপাতালের পরিবেশ ও বিএনপি’র সতর্কবার্তা
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ হাসপাতালের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। এই ভিড় যেন হাসপাতালের পরিবেশ ও অন্য রোগীদের চিকিৎসা নির্বিঘ্ন হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নেতাকর্মীদের প্রতি এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের আগমন এবং এসএসএফের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এখন হাসপাতালের পরিবেশ শান্ত রাখা আরও জরুরি। কারণ, হাসপাতালের শান্ত ও শৃঙ্খলামূলক পরিবেশ খালেদা জিয়াসহ সকল রোগীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চীনা ও ব্রিটিশ মেডিকেল টিমের আগমন তাঁর জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়কে তুলে ধরে। তাঁর অসুস্থতা যেহেতু বহু জটিলতা নিয়ে এসেছে, তাই বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সম্মিলিত জ্ঞান এই চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও, সংকটজনক পরিস্থিতি এখনও কাটেনি। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সরকারের মানবিক পদক্ষেপ—এই সবকিছুর ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের এই বরেণ্য রাজনৈতিক নেত্রীর ভবিষ্যৎ চিকিৎসা।
এম আর এম – ২৪৫৫,Signalbd.com



