এসএসসি পাস তরুণ-তরুণীদের জন্য সরকারী চাকরিতে যোগদানের অসাধারণ সুযোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ‘সৈনিক’ পদে সাধারণ (জিডি) ও টেকনিক্যাল ট্রেড (টিটি)—এই দুই বিভাগে নতুন জনবল নিয়োগ ঘোষণা করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এসএমএস বা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের অন্যতম শৃঙ্খলাবদ্ধ, মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল বাহিনী। এখানে চাকরির সুযোগ মানে শুধু একটি সরকারি চাকরি নয়—এটি একটি সম্মানজনক জীবন, স্থিতিশীল ক্যারিয়ার এবং দেশের জন্য কাজ করার দুর্লভ সুযোগ।
এই প্রতিবেদনে নিয়োগের যোগ্যতা, বয়স, শিক্ষাগত মান, আবেদন নিয়ম, পরীক্ষা পদ্ধতি, শারীরিক মানদণ্ড, প্রশিক্ষণ, সুবিধা—সব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
প্রতিষ্ঠানের নাম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
পদের নাম
সৈনিক (General Trade–GD)
সৈনিক (Technical Trade–TT)
পদসংখ্যা
নির্ধারিত নয়
১. কোন বিভাগে আবেদন করা যাবে?
(১) সাধারণ ট্রেড – GD (পুরুষ ও নারী)
এটি সৈনিক পদে সবচেয়ে বড় নিয়োগ বিভাগ। এখানে মূল দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ে অপারেশন, সামরিক প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা রক্ষা, দেশ রক্ষা এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।
(২) টেকনিক্যাল ট্রেড – TT (পুরুষ ও নারী)
এই বিভাগটি তাদের জন্য যারা প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা কারিগরি পটভূমি নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান।
এখানে আরও অনেক সাব-ট্রেড রয়েছে—যেমন:
- ইলেকট্রিক্যাল
- ইলেকট্রনিক্স
- গাড়ি/মেশিন মেরামত
- ওয়েল্ডিং
- প্লাম্বিং
- স্বাস্থ্য সেবা
- কম্পিউটার/আইটি
- মেকানিক্স
- অটোমোবাইল টেকনোলজি
- সিভিল টেকনোলজি
এজন্য কারিগরি শিক্ষায় পাস করা প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা থাকে।
২. বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
সাধারণ (জিডি) ট্রেড:
- বয়স: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখে ১৭-২২ বছর
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি/সমমান
- ন্যূনতম GPA: ৩.০০
বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।
টেকনিক্যাল ট্রেড (টিটি):
- বয়স: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখে ১৭-২৩ বছর
- শিক্ষাগত যোগ্যতা:
- এসএসসি ভোকেশনাল হতে কারিগরি বিষয়ে ন্যূনতম GPএ ৩.০০, অথবা
- এসএসসি/সমমান—ন্যূনতম GPA ৩.০০
৩. চাকরির ধরন
স্থায়ী সরকারি চাকরি
৪. প্রার্থীর ধরন
নারী ও পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।
৫. বৈবাহিক অবস্থা
অবিবাহিত হতে হবে।
৬. শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা মানদণ্ড
পুরুষ প্রার্থী:
- উচ্চতা:
- সাধারণ প্রার্থী: ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি
- ওজন: ৪৯.৯০ কেজি বা আনুপাতিক
- বুকের মাপ:
- স্বাভাবিক: ৩০ ইঞ্চি
- সম্প্রসারিত: ৩২ ইঞ্চি
- চোখের দৃষ্টি: ৬/৬
নারী প্রার্থী:
- উচ্চতা:
- সাধারণ প্রার্থী: ৫ ফুট ১ ইঞ্চি
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: ৫ ফুট
- ওজন: ৪৭ কেজি
- বুকের মাপ:
- স্বাভাবিক: ২৮ ইঞ্চি
- সম্প্রসারিত: ৩০ ইঞ্চি
- চোখের দৃষ্টি: ৬/৬
৭. আবেদন করার নিয়ম
প্রার্থীরা দুইভাবে আবেদন করতে পারবেন:
১. টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে এসএমএসে আবেদন
নির্ধারিত ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
২. অনলাইনে আবেদন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।
- আবেদন শেষে প্রবেশপত্র (Admit Card) প্রিন্ট করতে হবে
- আবেদনের ৭ দিনের মধ্যে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করতে ব্যর্থ হলে পরে আর প্রিন্ট করা যাবে না
৮. আবেদন ফি
- পরীক্ষা ফি: ২০০ টাকা
- রেজিস্ট্রেশন ফি: ১০০ টাকা
মোট: ৩০০ টাকা
৯. প্রার্থী নির্বাচন পদ্ধতি—ধাপে ধাপে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর, স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট। সাধারণত পাঁচটি ধাপে প্রার্থী বাছাই করা হয়।
ধাপ ১: প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা
উচ্চতা, ওজন, চোখের দৃষ্টি, রক্তচাপ, দাঁত, শারীরিক ত্রুটি—সবকিছু পরীক্ষা করা হয়।
ধাপ ২: শারীরিক দক্ষতা পরীক্ষা
- দৌড়
- পুশ-আপ
- সিট-আপ
- লং জাম্প
- শরীরের নমনীয়তা পরীক্ষা
ধাপ ৩: লিখিত পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে নিম্ন বিষয়ে:
- বাংলা
- ইংরেজি
- গণিত
- সাধারণ জ্ঞান
- বুদ্ধিমত্তা (IQ Test)
এগুলো স্কুল পর্যায়ের প্রশ্ন হলেও পরীক্ষা প্রতিযোগিতামূলক হয়।
ধাপ ৪: চূড়ান্ত সাক্ষাৎকার
সামরিক কর্মকর্তারা প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস, ভাষাগত দক্ষতা, মনোভাব, নেতৃত্বগুণ বিবেচনা করেন।
ধাপ ৫: ফাইনাল মেডিক্যাল পরীক্ষা
সমস্ত মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
১০. আবেদন শুরুর সময়
- আবেদন শুরু: ৪ ডিসেম্বর
- আবেদন শেষ: ২৫ জানুয়ারি
১১. কেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করবেন? (অতিরিক্ত গবেষণাভিত্তিক তথ্য)

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী, মর্যাদাপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নিরাপত্তাবাহিনী। এখানে চাকরি করা শুধুমাত্র এক পেশা নয়—এটি একটি সম্মান।
১. সরকারি চাকরির সকল সুবিধা
- স্থায়ী চাকরি
- আকর্ষণীয় বেতন
- বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
- গ্র্যাচুইটি
- প্রভিডেন্ট ফান্ড
- পেনশন সুবিধা
২. সেনাবাহিনীর বিশেষ সুবিধা
- বিনামূল্যে বাসস্থান/ব্যারাক সুবিধা
- চিকিৎসা সুবিধা
- রেশন সুবিধা
- বিদেশে প্রশিক্ষণ
- শান্তিরক্ষা মিশন (UN Mission) এ যোগ দেওয়ার সুযোগ
- পরিবারসহ নির্দিষ্ট আবাসনের সুযোগ
- উচ্চশিক্ষার সুযোগ
৩. ক্যারিয়ার উন্নতির সুযোগ
একজন সাধারণ সৈনিক থেকে কর্পোরাল, সার্জেন্ট, ওয়ারেন্ট অফিসার হয়ে কমিশনড অফিসার হওয়া পর্যন্ত—একাধিক পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে।
৪. চাকরির নিরাপত্তা
সেনাবাহিনীতে চাকরি অত্যন্ত স্থিতিশীল, নিয়মিত এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৫. শৃঙ্খলা ও দক্ষতা
এখানে কাজ করলে—
- সময় ব্যবস্থাপনা
- নেতৃত্বগুণ
- আত্মবিশ্বাস
- দেশপ্রেম
- ফিটনেস
- ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন
স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়।
১২. সৈনিকদের প্রশিক্ষণ: কী শেখানো হয়?
সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ৬-১২ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে থাকে—
- শারীরিক প্রশিক্ষণ
- ড্রিল
- প্যারেড
- আগ্নেয়াস্ত্র চালনা
- সামরিক শৃঙ্খলা
- যুদ্ধকৌশল
- কমিউনিকেশন দক্ষতা
- প্রাথমিক চিকিৎসা
- দলগত নেতৃত্ব
- আইটি/প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ
- মানসিক প্রস্তুতি
এই প্রশিক্ষণ শুধু সৈনিক তৈরিই করে না, একজন দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলে।
১৩. বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবীন সৈনিকদের ভূমিকা
নবীন সৈনিকদের প্রধান দায়িত্বগুলো—
- জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- দেশের সীমান্ত রক্ষা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণকে সহায়তা
- উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ
- অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সহায়তা
- সাইবার নিরাপত্তা ও টেকনিক্যাল দায়িত্ব পালন
১৪. কোন ভুলগুলো করলে আবেদন বাতিল হবে
- বয়স ভুল তথ্য
- শারীরিক যোগ্যতা না থাকা
- ভুয়া সনদপত্র
- এফিডেভিট দিয়ে বয়স বাড়ানো
- প্রবেশপত্র সময়মতো প্রিন্ট না করা
- গাইডলাইন না মেনে ছবি আপলোড করা
- ভুল এসএমএস ফরম্যাট
এসএসসি পাস তরুণ-তরুণীদের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদের এই নিয়োগ নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ সুযোগ। সরকারি চাকরির স্থায়ী সুবিধা, মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব, উন্নত প্রশিক্ষণ, বিদেশে কাজের সুযোগ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে এটি দেশের যুব সমাজের জন্য একটি বড় ক্যারিয়ার গন্তব্য।
যারা দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতা নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
অনলাইনে আবেদন শেষ হবে ২৫ জানুয়ারি—তাই সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
MAH – 14031 I Signalbd.com



