বিশ্ব

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, দুই মেজরসহ নিহত ৫

Advertisement

পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান প্রদেশে সেনাবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঠাকদাস সেনানিবাস থেকে উড্ডয়নের পর হুদোর গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের মধ্যে দুইজন মেজরসহ পাইলট, সহ-পাইলট এবং তিনজন ক্রু সদস্য ছিলেন।

নিহত সেনা সদস্যদের পরিচয়

আইএসপিআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাইলট ইন কমান্ড মেজর আতিফ, সহ-পাইলট মেজর ফয়সাল, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার নায়েব সুবেদার মকবুল, ক্রু প্রধান হাবলদার জাহাঙ্গীর এবং নায়েক আমির। সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এরা সবাই নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নিচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনার কারণ

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই হেলিকপ্টারটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বিধ্বস্ত হয় এমআই-১৭ মডেলের এ হেলিকপ্টার। এখনো সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হয়নি, কোন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবে।

দুর্ঘটনার পটভূমি

পাকিস্তানে সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে এ ধরনের বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের আগস্টে বেলুচিস্তানে বন্যা ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এক সেনা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। একইভাবে ২০১৫ সালে নর্দান এরিয়াতে এক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক নিহত হন। ফলে এ দুর্ঘটনা দেশটির সেনা পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গ করা এ সেনা সদস্যদের ত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণে রাখবে। একইসঙ্গে তিনি দুর্ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই নিহত সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ সেনা হেলিকপ্টারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি তুলেছেন।

সামরিক মহলে উদ্বেগ

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় এ ধরনের দুর্ঘটনা সামরিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে যেখানে হেলিকপ্টারের ব্যবহার বেশি, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ দুর্ঘটনা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এ দুর্ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে নিরাপত্তা, পুরনো সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ মিশনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় বিশ্লেষকরাও ঘটনাটিকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, কারণ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়মিত ঘটছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ মতামত

বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার হার ক্রমশ বাড়ছে, যা সরাসরি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের মতে, পুরনো এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের ব্যবহার সীমিত করে নতুন প্রযুক্তি সংযোজন করা জরুরি।

পাকিস্তানে দুই মেজরসহ পাঁচ সেনা সদস্যের মৃত্যুর এ ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকায় অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে হেলিকপ্টারের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এম আর এম – ১১৩১, Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button