বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দলের পক্ষ থেকে আসায় দেশের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। এই বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং আসন্ন নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সালাহউদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘোষণা: প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘শিগগিরই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান।’ তাঁর এই সংক্ষিপ্ত ও দৃঢ় ঘোষণা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
তবে সালাহউদ্দিন আহমেদ এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সূচি উল্লেখ করেননি। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও বিস্তারিত কিছু জানাননি, যদিও তাঁর অসুস্থতার কারণেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার আলোচনা আরও জোরালো হয়েছিল। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দলের সাংগঠনিক শক্তিকে বাড়াবে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
চলমান রাজনীতি ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা
স্থায়ী কমিটির এই বৈঠকটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সালাহউদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেন যে, বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিগত সরকারের পতনের পর বিএনপির নেতারা বারবার একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার ঠিক আগে এই বৈঠকটি ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও মজবুত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং প্রচার কৌশল নিয়েও বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের আলোচনা কয়েক দিন ধরেই বেশ জোরালো হয়েছে, বিশেষত সরকারের পক্ষ থেকে আসা কিছু ইতিবাচক বার্তার কারণে। রোববার (৩০ নভেম্বর) পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে কোনো বিধিনিষেধ নেই এবং একদিনেই তাঁকে ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব। একইসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থতার জন্য বিদেশে যেতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
এর আগে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কোনো আইনি বাধা নেই বলে আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারের এই উচ্চ পর্যায়ের আশ্বাসগুলো তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথকে আইনি ও কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই সহজ করেছে।
তারেক রহমানের ফেসবুক পোস্ট ও ‘বাধা’ প্রসঙ্গ
সালাহউদ্দিন আহমেদের এই ঘোষণার পূর্বে গত ২৯ নভেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরা নিয়ে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, যা কিছুটা রহস্যের জন্ম দেয়। তিনি লিখেছিলেন:
“এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।”
তিনি এই ‘বাধা’ স্পষ্ট না করে লিখেছিলেন, ‘রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’ সালাহউদ্দিন আহমেদের আজকের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারেক রহমানের উল্লিখিত ‘রাজনৈতিক বাস্তবতার’ পরিস্থিতি এখন ‘প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত’ হয়েছে, যার ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হচ্ছে।
মায়ের অসুস্থতা ও মানবিক দিক
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার অন্যতম প্রধান মানবিক কারণ। বর্তমানে খালেদা জিয়া হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজন সন্তান হিসেবে মায়ের অসুস্থতার চরম মুহূর্তে পাশে থাকার মানবিক আকাঙ্ক্ষা তারেক রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টেও প্রকাশ করেছেন।
দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল রাজনৈতিকভাবেই নয়, বরং মানবিক দিক থেকেও খুবই জরুরি। মায়ের অসুস্থতার সময় তাঁর পাশে থাকা দলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং দলীয় সংহতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হবে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তাঁর প্রত্যাবর্তন দলকে নতুন করে উজ্জীবিত করবে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর উপস্থিতি দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করতে এবং নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়াতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, তাঁর প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। দেশের প্রধান বিরোধী দলের প্রধান নেতার দেশে ফেরা নির্বাচনের পরিবেশ এবং রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করবে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাস দেশের রাজনীতিতে সহাবস্থানের নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয়।
অপেক্ষা এখন ‘শিগগিরই’-এর জন্য
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘শিগগিরই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান’ ঘোষণাটি দেশের রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত ও নিরাপত্তা সহায়তার আশ্বাস এবং মায়ের অসুস্থতা—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময় ঘনিয়ে এসেছে। এখন দেশের রাজনীতিতে সবার অপেক্ষা তারেক রহমানের সেই
এম আর এম – ২৪৫৪,Signalbd.com


