যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা হোয়াইট হাউসে আলোচনার জন্য ব্যস্ত, সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন কূটনৈতিক যোগাযোগে জড়িত। ফোনালাপে আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে ব্যস্ত তিনি।
ইউরোপীয় নেতাদের হোয়াইট হাউস সফর
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা বৈঠকের জন্য হাজির হন। আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সহায়তা, এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বৈঠকটি কয়েক ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত হলেও, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল সীমিত। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, নেতারা একে অপরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন এবং ভবিষ্যতের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।
পুতিনের ফোনালাপে ব্যস্ততা
এই সময়ে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার নিজস্ব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত পুতিন চারজন বিশ্বনেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
ফোনালাপের তালিকায় ছিলেন:
- ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা
- দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
- তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রাহমন
ক্রেমলিনের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট জানিয়েছে, পুতিন শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ‘মূল ফলাফল’ সম্পর্কে নেতাদের অবহিত করেছেন।
মোদি-পুতিনের দ্বিপাক্ষিক আলাপ
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি এবং পুতিন ফোনালাপে ইউক্রেনে চলমান সংঘাত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয় আলোচনা করেছেন। মোদি নিশ্চিত করেছেন যে ভারত শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য সমর্থন দেবে।
ফোনালাপ শেষে মোদি সামাজিক মাধ্যমে পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। এই সংযোগ প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক কূটনীতিতে রাশিয়ার সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত আছে।
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: কৌশল ও প্রভাব
আলাস্কায় পুতিন ও ট্রাম্পের বৈঠকটি রাজনৈতিক কৌশলের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বৈঠকে পুতিন ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন প্রশংসার মাধ্যমে, যা একজন আত্মপ্রেমী নেতাকে প্রভাবিত করার জন্য কার্যকর বলে মনে করা হয়।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, যুদ্ধের মূল কারণ দূর করতে হবে এবং রাশিয়ার বৈধ উদ্বেগ বিবেচনা করতে হবে। ট্রাম্প এবং পুতিনের আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও, কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈঠক রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করতে সহায়ক হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করেও ক্রেমলিন আন্তর্জাতিক কৌশল চালাচ্ছে, যা শুধুমাত্র ইউক্রেন নয়, চীন ও অন্যান্য বিশ্বশক্তির সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই বৈঠক এবং পুতিনের ফোনালাপকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনে যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কাঠামোতে রাশিয়ার প্রভাব বাড়ছে।
কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়াতে পারে এবং নাগরিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে আরও মোতায়েন করতে পারে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, বৈঠকের ফলে পুতিনকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক মিশনে সুবিধা আনতে পারে।
প্রভাবিত দেশ ও কৌশল
পুতিনের এই কার্যক্রম ইউরোপীয় ও এশীয় দেশগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তাজিকিস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, আন্তর্জাতিক বাজার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউক্রেনের বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনের ফোনালাপ এবং আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও শক্তি সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে।
যেখানে ইউরোপীয় নেতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ বৈঠকের জন্য ব্যস্ত, সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন তার ফোনালাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয়। এই দুই দিকের কর্মসূচি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভবিষ্যতের শান্তি প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
রাশিয়ার সক্রিয় কূটনীতির মাধ্যমে পুতিন শুধু নিজের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করছে না, বরং বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করছে, যা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এম আর এম – ০৯২৮, Signalbd.com



