বেগম জিয়া বলেছিলেন, মানুষের ঘরে ঘরে যাও, তাদের পাশে দাঁড়াও: এস এম জাহাঙ্গীর
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তির পূর্বে নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন। ঢাকা-১৮ আসনের ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘২৩ নভেম্বর রাতে ম্যাডাম যখন মেডিক্যালে যান তখন আমি নেত্রীকে সালাম দিয়ে কৌশল বিনিময় করার পর তিনি আমাকে বলেছেন, তোমরা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যাও, তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াও, আমার জন্য দোয়া করতে বলো।’ এই আবেগপূর্ণ বার্তা শুনে তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত কয়েক হাজার নেতাকর্মী আপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর এই বার্তাটি দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি খালেদা জিয়ার গভীর মমত্ববোধকেই তুলে ধরে।
নেত্রীর বার্তা: জনসেবা ও দোয়া কামনা
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়া নিজের অসুস্থতার সময়েও তাঁর ব্যক্তিগত উদ্বেগ প্রকাশ না করে সাধারণ জনগণের কথা চিন্তা করেছেন। হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বে তাঁর দেওয়া নির্দেশনাটি ছিল স্পষ্ট: জনগণের পাশে দাঁড়াও এবং দোয়া চাও। এই বার্তাটি জনগণের সেবাকেই তাঁর অগ্রাধিকার হিসেবে প্রমাণ করে।
শনিবার বিকেলে আজমপুর নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এস এম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর এই বক্তব্য দলীয় কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছে।
খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও সম্মান
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন মন্তব্য করেন, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘বাংলাদেশের মানুষকে সব সময় হৃদয়ে ধারণ করতেন’ বলেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সারাদেশে মানুষ ও বিশ্ব নেতারা তাঁকে ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নেত্রীর এই জনদরদী মনোভাবের কারণেই দলমত নির্বিশেষে মানুষ তাঁর অসুস্থতায় এত উদারভাবে সহানুভূতি ও ভালোবাসা দেখাচ্ছে।
তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের পট পরিবর্তনের পর দেশনেত্রীর প্রতি দেশের মানুষের যে উদারতা, সম্মান ও ভালোবাসা দেখানো হয়েছে, তার জন্য বিএনপি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই ব্যাপক জনসমর্থন খালেদা জিয়ার আপসহীন ব্যক্তিত্ব এবং দেশের গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ত্যাগ স্বীকারের ফসল বলে মনে করেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর ‘জুলুম নির্যাতন’ ও শেখ হাসিনার পলায়ন
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে আমাদের নেত্রী জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তবু তিনি এ দেশের মানুষকে ছেড়ে পালিয়ে যান নি।’
তিনি দাবি করেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন খুনি হাসিনার বিচার করেছে, তাঁকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অতীতের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। দলের নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া হয় এবং তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে জীবনসংকটজনক পরিবেশে রাখা হয়েছিল।
ঢাকা-১৮ আসনে ব্যাপক কর্মসূচি
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ঢাকা-১৮ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয়। উত্তরা জুড়ে এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তরা ১১নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ করা হয়। তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও উত্তরা এলাকাজুড়ে এই কর্মসূচিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও হাজার হাজার গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচিগুলো কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসম্পৃক্ততার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
মোস্তফা জামানের মন্তব্য: সংগ্রামের আলোকবর্তিকা
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান তুরাগের রানা ভোলা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতাই আজ পুরো জাতির কামনা। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামের আলোকবর্তিকা।’
মোস্তফা জামান আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের লড়াইয়ের নাম বেগম খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অন্যায়ের মধ্যেও তিনি সবসময় অটল থেকেছেন। আজ তিনি অসুস্থ, কিন্তু তাঁর আদর্শ—তাঁর সাহস—এখনও লক্ষ কোটি মানুষের মনে অমর হয়ে আছে।’ তিনি তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং এজন্য পুরো জাতিকে দোয়া করার আহ্বান জানান। এই বক্তব্যটি খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।
বর্তমান শারীরিক অবনতির জন্য পূর্ববর্তী সরকার দায়ী
বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্যে বারবার অভিযোগ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবনতির জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচারী নীতি ও অন্যায় আচরণই পুরোপুরি দায়ী। তাদের অভিযোগ, সেই সরকারের অবহেলা ও নিষ্ঠুর আচরণের কারণেই আজ বেগম জিয়া মারাত্মকভাবে অসুস্থ।
এই অভিযোগগুলো খালেদা জিয়ার অসুস্থতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্ব দেয় এবং দলের কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের আবেগী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এই ধরনের সভা-সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি তাদের নেত্রীর প্রতি জনগণের সহানুভূতিকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে।
মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা
বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে দেওয়া ‘মানুষের ঘরে ঘরে যাও, তাদের পাশে দাঁড়াও’ বার্তাটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল দর্শনকে প্রতিফলিত করে। তাঁর অসুস্থতার সময়ে দলের নেতাকর্মীরা এই নির্দেশনা অনুসরণ করে জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তাঁর এই মানবিক আবেদন এবং গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ত্যাগ স্বীকারের ইতিহাস দেশের মানুষকে এখনও আবেগাপ্লুত করে। তবে এই আবেগ কখন রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এম আর এম – ২৪২৯,Signalbd.com



