বাংলাদেশ

এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১০০ ছাড়াল

Advertisement

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে তিনজন রোগী মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৪৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সরকারি পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনই পুরুষ। নতুন ভর্তি হওয়া ৪৪৮ জন রোগীর মধ্যে ঢাকার বাইরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী — বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ জন, রংপুর বিভাগে ৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৪ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান

২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ২০০ জন পুরুষ এবং ৯ হাজার ৯৮০ জন নারী।
এ বছর এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৭০০ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে আছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

কেন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়াই মূল কারণ। এডিস মশা স্বচ্ছ ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে, যা শহরের ড্রেন, ফুলের টব, পুরনো টায়ার বা ছাদে জমে থাকা পানিতে সহজেই পাওয়া যায়।
এছাড়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন, বৃষ্টির অনিয়মিত ধারা এবং পর্যাপ্ত মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকাও ডেঙ্গুর বিস্তারের জন্য দায়ী।

ডেঙ্গুর লক্ষণ ও করণীয়

ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো — উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, চামড়ায় লাল দাগ এবং শরীরে অবসাদ।
যদি কেউ এসব উপসর্গ অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু হলে যথেষ্ট বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

প্রতিরোধই ডেঙ্গু মোকাবিলার মূল কৌশল

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এজন্য নিয়মিত বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, স্থির পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব ও পানির পাত্র ঢেকে রাখা জরুরি।
শহর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে কার্যক্রম চালাতে হবে।
এছাড়া, জনগণকেও সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে নিজ উদ্যোগে বাড়ি ও আশপাশে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কতা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কেউ জ্বর, শরীর ব্যথা বা চামড়ায় দাগ অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে এবং নিজেকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করতে হবে।

শেষ কথা 

এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি যে গুরুতর আকার ধারণ করেছে, তা পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার না করলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ একসাথে কাজ করলেই ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমানো সম্ভব।
প্রশ্ন হচ্ছে — আমরা কি এখনই যথেষ্ট সতর্ক হচ্ছি, নাকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার অপেক্ষা করছি?

এম আর এম – ০৭৭৬, Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button