বাংলাদেশ

সেনাবাহিনীর সহায়তায় গোপালগঞ্জ ছাড়লেন হাসনাত-সারজিসরা

Advertisement

 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার পর সেনাবাহিনীর সহায়তায় এপিসিতে করে নিরাপদে গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন। জেলার পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হামলার সময় ও স্থান

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে একদল সশস্ত্র যুবক নেতাদের বহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। হামলাকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা।

সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও নিরাপদে প্রস্থানের ঘটনা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেনা সদস্যরা হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে। এরপর সেনাবাহিনীর এপিসিতে করে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর একাধিক এপিসিতে আলাদাভাবে উঠছেন এই চার নেতা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এত উত্তেজনাকর পরিবেশে নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।”

‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি

জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই মাসজুড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি হাতে নেয়। এর অংশ হিসেবে ১৬ জুলাই তারা ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ আয়োজন করে। সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক এলাকায় জমায়েত হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। সেখানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

কিন্তু সমাবেশ শেষে ফেরার সময়ই গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর আগেও বিভিন্ন জেলায় এনসিপির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

হামলার প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে গোপালগঞ্জে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনসাধারণ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ছোড়ে। পুলিশের একটি গাড়ি ও সেনাবাহিনীর একটি এপিসিতেও ইট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পরপরই পুরো গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে টহল বাড়ানো হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ব্লকেড কর্মসূচি

হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে ব্লকেড কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের ভাইয়েরা নিরাপদে আছেন।” তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন যেন ব্লকেড তুলে নিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া হয়।

জনমত ও বিশ্লেষণ

ঘটনার ভিডিও এবং ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক সহিংসতায় সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রায়হান কবির বলেন, “এই ধরনের হামলা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে তা প্রমাণ করে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর এভাবে হামলা হওয়া উদ্বেগজনক।”

“এই ধরনের হামলা রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা”—ড. রায়হান কবির, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সারসংক্ষেপ  

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে আবারও হামলা চালানো হয়েছে গোপালগঞ্জে। সমাবেশ শেষে ফেরার পথে ঘটে এই ন্যাক্কারজনক হামলা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় এপিসি বা সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে হাসনাত-সারজিসরা গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতাদের ওপর হামলা ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, সারাদেশে এই ঘটনার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রশ্নে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এনসিপি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়—তা এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এম আর এম – ০৩৬৭, Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button