সাতক্ষীরায় এক পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ জনগণকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়তে হবে, আর এদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তার নেতৃত্বে পদযাত্রা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান
১২ জুলাই (শনিবার), সাতক্ষীরা শহরে অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “চাঁদাবাজিতে দেশ ছেঁয়ে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। তাদের সঙ্গে আত্মীয়তাসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করুন।” তিনি আরও জানান, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
পথসভায় স্থানীয় জনগণসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
চাঁদাবাজি কেন এখন আলোচনায়?
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। বাজার, দোকানপাট, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নানা ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় থাকা কিছু গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে সাধারণ জনগণের উপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকেরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন।
জনসচেতনতা গড়ার উদ্যোগ
হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে এনসিপি নেতৃবৃন্দ দুপুর ১টার দিকে খুলনা থেকে গাড়িবহর নিয়ে সাতক্ষীরায় পৌঁছান। কুমিরা বাজার এলাকায় তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও গার্ড অব অনার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের আমতলা থেকে আসিফ চত্বর পর্যন্ত একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত সমর্থক অংশ নেন এবং “চাঁদাবাজদের প্রতিহত করো” ধ্বনিতে মুখরিত হয় এলাকা।
পদযাত্রা শেষে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ: সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা
স্থানীয় জনগণের মতে, এমন বক্তব্য ও কর্মসূচি এখন সময়ের দাবি। সাতক্ষীরার স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন চাঁদা দিতে দিতে আমরা জর্জরিত। কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি আসে। এখন অন্তত কেউ বলছে এইসব থামাতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। তবে শুধু বক্তৃতা নয়, বাস্তব কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি।
চাঁদাবাজি রোধে করণীয়: করণীয় নির্দেশনা দিলেন হাসনাত
- হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে জনগণের করণীয় দিকনির্দেশনাও দেন:
- চাঁদাবাজদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা
- আত্মীয় কিংবা পরিচিত হলেও চাঁদাবাজদের সামাজিকভাবে বর্জন করা
- প্রশাসনের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানো
- স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলা ও সচেতনতা তৈরি করা
তিনি বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। এখনই রুখে দাঁড়াতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ থাকবে না।”
প্রতিরোধই মুক্তির উপায়
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। জাতীয় নাগরিক পার্টির সাম্প্রতিক কর্মসূচি ও পথসভা এটি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে। তবে এটি বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করছে জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার ওপর।
সারসংক্ষেপ
সাতক্ষীরায় শনিবার এক পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরে চাঁদাবাজি এক ভয়ঙ্কর ব্যাধির মতো ঢুকে পড়েছে, যার বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই ডাক শুধু শব্দে সীমাবদ্ধ থাকবে, না কি সত্যিকার অর্থেই ঘরে ঘরে প্রতিরোধ তৈরি হবে?
এম আর এম – ০২৯৩, Signalbd.com



