বাংলাদেশ

ডেঙ্গু কেড়ে নিলো আরও ৩ প্রাণ, নতুন আক্রান্ত ৪২৫ জন

Advertisement

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২৫ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি

দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৪২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি রোগী বরিশাল বিভাগে শনাক্ত হয়েছে, যেখানে ১২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৮ জন, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ জন এবং ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় ৩৬ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৪৮ জন, খুলনায় ১৮ জন, ময়মনসিংহে ১১ জন এবং সিলেটে ১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিসংখ্যান: উদ্বেগজনক চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩,১৮৮ জনে। আর এই প্রাণঘাতী রোগে মারা গেছেন মোট ৫১ জন। শুধু জুলাই মাসেই এখন পর্যন্ত ২,৮৯২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৯ জন।

এছাড়া জানুয়ারিতে ১,১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন এবং মে মাসে ১,৭৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ৭ জন এবং মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হয়।

লিঙ্গ ও অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণ

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯.৫ শতাংশ নারী এবং ৬০.৫ শতাংশ পুরুষ। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, পুরুষদের মধ্যে সংক্রমণের হার কিছুটা বেশি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১,৩৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ৩৮৬ জন ঢাকায় এবং বাকিরা ঢাকার বাইরে ভর্তি।

অতীত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি কেমন?

২০২৪ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১,০১,২১৪ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৫৭৫ জন। তবে ২০২৩ সালে চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ—৩,২১,১৭৯ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যু হয়েছিল ১,৭০৫ জনের। সেই তুলনায় ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্ষা মৌসুমে সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ও করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র সৃষ্টি হচ্ছে। এসব জায়গায় নিয়মিত পরিষ্কার না হলে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। তাই ব্যক্তিগত সতর্কতা ও সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা ইসলাম বলেন,
“যেসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”

তাঁর মতে, গৃহস্থালি ও আশপাশের এলাকায় মশার প্রজননস্থল খুঁজে তা ধ্বংস করতে হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে ঘরের আশপাশে মশা নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা

সরকারিভাবে মশক নিধনে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে না, বা তা কার্যকর হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত এলাকার মশা নিধন কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিটি এলাকায় টাস্কফোর্স গঠন করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

সতর্কতা ও সচেতনতার সময় এখনই

বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগামী দিনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সময় থাকতে জনসচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা না গেলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সতর্ক থাকুন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করুন—এটাই এখন সময়ের দাবি।

এম আর এম – ০২৩৭, Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button