দুর্নীতি রোধে আরও কঠোর হবে সরকার: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। তবে দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়, বরং দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সেমিনারে দুর্নীতি দমন নিয়ে আলোচনা
বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেলে ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই মন্তব্য করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, যা ইতোমধ্যে সুফল দিতে শুরু করেছে।”
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা। আলোচনায় উঠে আসে, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য সুষ্ঠু নীতি বাস্তবায়ন, কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা।
দুর্নীতি দমনে সরকারের উদ্যোগ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১. ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি: সরকারি দফতরগুলোর আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। 2. আইন প্রয়োগের কঠোরতা: দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া মাত্রই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 3. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 4. স্বাধীন তদন্ত কমিটি: বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের পদক্ষেপ
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১. সরাসরি বাজার পর্যবেক্ষণ: সরকার বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে।
২. ভর্তুকি ও প্রণোদনা: নিম্ন আয়ের জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তুকি এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৩. মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান: অবৈধ মজুতদারি রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। এই উত্তরণ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এর সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চ্যালেঞ্জ:
- এলডিসি সুবিধা হারানোর কারণে রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ কমে যেতে পারে।
- উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঋণের শর্ত কঠোর হতে পারে।
সম্ভাবনা:
- বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।
- উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ তৈরি হবে।
- তথ্যপ্রযুক্তি, তৈরি পোশাক ও কৃষি-প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
উপদেষ্টার আহ্বান
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। কিন্তু এর জন্য সরকার, ব্যবসায়ী এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি রোধে সরকার সবসময় কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।