বিশ্ব

মাঝ আকাশে ২ উড়োজাহাজের সংঘর্ষ, বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী সিডনির কাছে মাঝ আকাশে দুটি হালকা উড়োজাহাজের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন পাইলট নিহত হয়েছেন। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমের ওয়েডারবার্নে বিমানবন্দরের কাছে ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিধ্বস্ত বিমানটির পাইলটের মরদেহ খুঁজে পেয়েছেন। এই দুর্ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো (এটিএসবি) একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। সৌভাগ্যক্রমে, অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় এবং তার পাইলট অক্ষত রয়েছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে এমন ঘটনা বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত: সংঘর্ষ ও ধ্বংসের চিত্র

অস্ট্রেলিয়ান এসোসিয়েট প্রেস এবং রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে ওয়েডারবার্নে বিমানবন্দরের কাছে দুটি ছোট বিমান মাঝ আকাশে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বিমানগুলোর একটি সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিকটবর্তী ঝোপঝাড়ের মধ্যে আছড়ে পড়ে। অপর বিমানটি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাইলটের দক্ষতায় সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ এবং জরুরি সেবা কর্মীদের দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করার পর সেটির পাইলটের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত পাইলটের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো (এটিএসবি) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ‘সংঘর্ষে জড়িত বিমানগুলোর একটি নিরাপদে অবতরণ করেছিল। কিন্তু অন্যটি ভূমিতে আছড়ে পড়ে এবং তার পাইলট নিহত হন।’

তদন্ত শুরু: সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধানে এটিএসবি

এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো (এটিএসবি) একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। এটিএসবি’র তদন্তকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করবেন এবং বিমানের ডেটা রেকর্ডার ও কন্ট্রোল টাওয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংঘর্ষের মূল কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করবেন।

প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না জানা গেলেও, তদন্তকারীরা বিমান চালনায় মানবীয় ত্রুটি, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা বিমানবন্দরের আশেপাশে ঘন ঘন ছোট বিমানের চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কোনো দুর্বলতা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন। এটিএসবি দুর্ঘটনার এলাকা জনসাধারণকে এড়িয়ে যেতে অনুরোধ করেছে, যাতে তদন্ত কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পারে। একটি হালকা বিমানের সংঘর্ষে অপরটির পাইলটের মৃত্যু হওয়ায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ওয়েডারবার্নে বিমানবন্দরের পূর্বপটভূমি

ওয়েডারবার্নে বিমানবন্দরটি সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এবং এটি মূলত ছোট বিমান, উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের বিমানবন্দরগুলোর আশেপাশে মাঝ আকাশে হালকা বিমানগুলোর চলাচল এবং প্রশিক্ষণের সময় সংঘর্ষের ঘটনা বিরল হলেও, এটি বিমান চলাচল নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি।

সংঘর্ষের শিকার বিমান দুটি একই উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ স্কুলের ছিল কিনা, অথবা তারা ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে উড্ডয়ন করেছিল, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। এই ধরনের হালকা বিমানগুলো সাধারণত প্রশিক্ষণের সময় এবং স্থানীয় বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা বিধি এবং আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। অতীতে এই অঞ্চলে এ ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা, সেই ইতিহাসও খতিয়ে দেখছে এটিএসবি।

অপর পাইলটের ভাগ্য ও মানসিক অবস্থা

সৌভাগ্যক্রমে, সংঘর্ষে জড়িত অন্য বিমানটির পাইলট সামান্য আঘাতও পাননি এবং তিনি বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করান। মাঝ আকাশে এমন ভয়াবহ সংঘর্ষের পরও নিরাপদে অবতরণ করতে পারা ওই পাইলটের দক্ষতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় বহন করে।

তবে, তিনি গুরুতর মানসিক আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এবং একটি মর্মান্তিক সংঘর্ষে জড়িত থাকার কারণে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এটিএসবি এবং পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যা তদন্তের কাজে অত্যন্ত সহায়ক হবে। এই পাইলটের দেওয়া তথ্য সংঘর্ষের কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিমান চলাচল নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন

মাঝ আকাশে দুটি বিমানের সংঘর্ষ বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সিডনির মতো ব্যস্ত আকাশসীমার কাছাকাছি হালকা বিমানের চলাচলের সময় এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC) কী ধরনের ভূমিকা পালন করছিল, তা তদন্তের মূল বিষয়বস্তু হবে।

বিমানচালককে দৃশ্যমানতা বা অন্য কোনো কারণে সময়মতো সতর্ক করা হয়েছিল কিনা, অথবা দুটি বিমান একই উচ্চতায় কাছাকাছি চলে এসেছিল কিনা—এই প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজছে এটিএসবি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছোট এবং হালকা বিমানগুলোর চলাচলের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রণয়ন করা উচিত, যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এই দুর্ঘটনাটি ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার বিমান চলাচল নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।

জনজীবনে প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

দুর্ঘটনাটি সিডনির কাছাকাছি একটি অঞ্চলে ঘটায় স্থানীয় জনজীবনে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। দুর্ঘটনার এলাকাটি জনসাধারণকে এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিমানবন্দর এবং ছোট বিমানের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিধ্বস্ত বিমানের উদ্ধারকৃত অংশগুলো সরিয়ে নিতে কাজ করছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার বিমান চলাচল ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হলো।

এম আর এম – ২৪২৭,Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button