রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে তাঁর পরিবার। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এই লক্ষ্যেই সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
গুরুতর অসুস্থতার কারণে গত ২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি সিসিইউতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা প্রকাশের বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
লন্ডনে চিকিৎসার পরিকল্পনা: পরিবারের উদ্যোগ
তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন যে, দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত আপসহীন নেত্রীর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই জিয়া পরিবার তাঁকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চাইছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই বছরেই লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে ইতিমধ্যে তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান যোগাযোগ করেছেন।
মাহদী আমিন আরও নিশ্চিত করেন যে, চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের প্রস্তুতি ইঙ্গিত দেয় যে, পরিবার দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে, তবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত এবং বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার স্থিতিশীলতার ওপর।
তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের সার্বক্ষণিক তদারকি
মাহদী আমিন তাঁর পোস্টে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের সক্রিয় ভূমিকার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা মূলত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে, দেশ-বিদেশে সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব পালন করছেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি লন্ডন থেকেই মায়ের চিকিৎসার যেন কোনো ধরনের বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না ঘটে, তার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অটল দৃঢ়তা নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি ও পরিচালনা করছেন। এই তথ্য জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার বিষয়ে নেওয়া উচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
বর্তমান শারীরিক অবস্থা
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত রোববার (২৩ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে তাঁকে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণ, হৃদযন্ত্রের জটিলতা ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে তিনি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্ব তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন হাসপাতালে যাওয়া নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে রোগীর চিকিৎসার পরিবেশ বজায় থাকে। এর আগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানও জানিয়েছিলেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেই তাঁকে বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা অর্জনই বর্তমানে মূল চ্যালেঞ্জ।
## জিয়া পরিবারের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা
মাহদী আমিন তাঁর পোস্টে খালেদা জিয়াকে ‘পুরো বাংলাদেশের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির প্রকাশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রীর প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা ও আবেগ তাঁকে দ্রুত সুস্থ করে তোলার প্রেরণা যোগাচ্ছে। পরিবার মনে করে, লন্ডনে উন্নত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকলে তাঁর সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা বাড়বে।
এই পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের জনমত এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দলের সংহতি ও নেত্রীর প্রতি তাদের আনুগত্যকে আরও জোরদার করবে।
পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় দেশবাসী
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তাঁর পরিবার তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন সবার চোখ মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। বোর্ড কখন তাঁকে বিদেশ ভ্রমণের জন্য ফিট ঘোষণা করে, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে তাঁর পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা শুরুর জন্য তাঁর দল ও দেশবাসী দোয়া করছে।
এম আর এম – ২৪০৮,Signalbd.com



