আফগানিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন প্রক্রিয়ায় যে সাহসী আত্মত্যাগ এবং অবিশ্বাস্য সংগ্রাম হয়েছে, সেই দেশের মানুষ কখনোই অন্য কারো দাসত্ব গ্রহণ করবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী নূর জালাল জালালি।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশীরা আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা প্রশ্ন করে, আমি তোমার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, তুমি কেন আমাকে ছেড়ে গেলো? তুমি যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আগে আমাকে জানাবে কেন? কিন্তু আমাদের আফগানরা স্বাধীন। যারা এত আত্মত্যাগ করেছে, তারা কখনো অন্যের অধীনে থাকবে না। আমাদের নিজেদের ব্যবস্থাপনা আমাদেরই হাতে রাখতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এবং সহযোগিতার বিষয়গুলো সবার সঙ্গে খোলাখুলি ভাগাভাগি করা হবে। স্বাস্থ্য, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, সক্ষমতা ও ওষুধের ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বমঞ্চে সক্রিয়। আমাদের উদ্যোগ এবং সক্ষমতা রয়েছে।”
কুনার প্রদেশের হাসপাতাল নির্মাণে পুনরায় উদ্বোধন
কুনার প্রদেশে নির্মাণাধীন ২০০ শয্যার হাসপাতালের কাজ পুনরায় শুরু করার অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যপথ বন্ধ রাখার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, আফগান জনগণ স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। বিদেশি চাপের মুখে আমাদের নীতি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের দেশীয় উদ্যোগ এবং উৎপাদনশীলতার ওপর বিশ্বাস রাখি। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করি, তবে তা আমাদের স্বাধীনতার ওপর ছায়া ফেলবে না।”
দেশীয় ওষুধ উৎপাদনে গুরুত্বের বার্তা
জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী নূর জালাল জালালি বলেন, আফগানিস্তান বর্তমানে ২০০টিরও বেশি ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানার মালিকানা রাখে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে চারটি কারখানা জিএমপি (Good Manufacturing Practice) সনদপ্রাপ্ত। এই মান আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে উপস্থাপন করেছি। অন্যান্য কারখানাগুলোকেও এই মানে পৌঁছাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো নিজেদের উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং দেশীয় পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “যদিও আমাদের নিজস্ব উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়, তবুও আমরা ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছি। বিদেশি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও সুষ্ঠু ও কার্যকর করবে।”
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রভাব
নূর জালাল জালালি জানিয়েছেন, আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ওষুধ সংকট দূর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা শিগগিরই ফলপ্রসূ হবে।
তিনি বলেন, “আমরা শুধুমাত্র বিদেশের উপর নির্ভরশীল থাকি না। আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ওষুধ উৎপাদন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের ওপর মনোযোগ দিচ্ছি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে, কিন্তু এটি আমাদের স্বাধীন নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
আফগান জনগণের অটল সংকল্প
মন্ত্রী বলেন, আফগান জনগণ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা এবং মর্যাদা রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছে। এই সংগ্রাম সহজ ছিল না। বহু বছর ধরে যুদ্ধ, দারিদ্র্য, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে আফগানরা স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই কারণে তারা কখনোই অন্য কারো দাসত্ব মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, “আমাদের মানুষ জানে স্বাধীনতা কত বড় মূল্যবোধ। যারা এই স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে, তারা কখনো অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে দাসত্ব মেনে নেবে না। আমাদের স্বাধীনতা এবং নিজস্ব নীতি রক্ষা করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি
- ২০০টির বেশি ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা: দেশীয় ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আফগানিস্তানকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রচেষ্টা।
- জিএমপি মান সনদপ্রাপ্ত চারটি কারখানা: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করা।
- বেসরকারি খাতে সহায়তা বৃদ্ধি: স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা এবং পরিষেবা উন্নত করার প্রচেষ্টা।
- আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব: সংকট নিরসনে বৈশ্বিক সহযোগিতার সঙ্গে কাজ।
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো নিজস্ব উৎপাদন শক্তিশালী করা। এটি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল এবং কার্যকর করবে। দেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করা হবে।”
প্রতিবেশী দেশ ও বাণিজ্য সম্পর্ক
নূর জালাল জালালি পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বন্ধের বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আফগানরা বহির্বিশ্বের চাপের মুখে কখনো ভীত হবে না।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশীরা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইলে তারা ভুল করবে। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে স্বাধীন। আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং অর্থনীতি উন্নয়নে আমরা কোনোরকম আপোষ করব না। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের উন্নয়নে অটল থাকা।”
আফগান জনগণের জন্য বার্তা
মন্ত্রী জোর দেন, আফগান জনগণ তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “আমরা কখনো দাসত্ব গ্রহণ করব না। আমাদের দেশের মানুষ জানে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কত বড় আত্মত্যাগ করেছে। সেই স্বাধীনতা রক্ষাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”
আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে দেখায় যে দেশটি নিজস্ব নীতি, স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতার ওপর ভরসা রাখছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করলেও আফগানরা তাদের স্বাধীনতা এবং মর্যাদা রক্ষায় অটল থাকবে।
ইমারাতে ইসলামিয়ার জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী নূর জালাল জালালির এই কঠোর বক্তব্য আফগান জনগণের দৃঢ় সংকল্প, আত্মনির্ভরতা এবং স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
MAH – 14046 I Signalbd.com



