আঞ্চলিক

বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির দুদিন পর ১৪ জেলেকে উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

Advertisement

পটুয়াখালীর কলাপারা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছধরা ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার দুই দিন পর সমুদ্র থেকে ১৪ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ৬ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকৃত জেলেদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ট্রলার ডুবির ঘটনা

রোববার ভোররাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালি থেকে পটুয়াখালীর কলাপারা অঞ্চলের দিকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যাওয়া এফবি মায়ের দোয়া নামের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়া এলাকায় ডুবে যায়। জেলেরা জানিয়েছেন, ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর তারা প্লাস্টিকের পানির ড্রাম ও অন্যান্য ভেসে থাকা সামগ্রী ব্যবহার করে সমুদ্রে দুই দিন ভেসে ছিলেন।

উদ্ধারকালে কয়েকটি ছোট ট্রলার তাদের সমুদ্রে ভেসে থাকতে দেখে এবং স্থানীয় জেলেরা তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। উদ্ধার হওয়া ১৪ জন জেলেকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিখোঁজ জেলেদের তালিকা

এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৬ জন জেলে। তাদের নাম এবং বয়স হলো:

  • আবু তাহের (৫৫)
  • কামাল (৩৫)
  • রিয়াজ উদ্দিন (২২)
  • তমিজ (১৮)
  • সোহাগ (২০)
  • শাহাবুদ্দিন (৪৫)

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল জানিয়েছেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য কোষ্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত জেলেদের অভিজ্ঞতা

উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানিয়েছেন, তারা ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রে দুই দিন ধরে ভেসে ছিলেন। তারা প্লাস্টিকের পানির ড্রাম ও ট্রলারের ভেসে থাকা কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করে জীবন বাঁচিয়েছেন। জেলেরা বলেন, সমুদ্রের ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে তাদের বাঁচার সম্ভাবনা কম মনে হচ্ছিল।

দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জেলেদের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রলারটি অতিরিক্ত ওজন ও চরম সমুদ্রের তাণ্ডবের কারণে ডুবে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাছ ধরার ট্রলারে অতিরিক্ত মালামাল ও ইঞ্জিনের দুর্বল অবস্থা বড় ভূমিকা রেখেছে।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ও কোষ্টগার্ড নিয়মিতভাবে মাছধরা ট্রলারগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তবে বাণিজ্যিক চাপ ও মাছ ধরার চাহিদার কারণে অনেকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মানতে ব্যর্থ হয়।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

কলাপারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা জেলেদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত জেলেদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য আরও জেলেরা ও কোষ্টগার্ডকে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আমরা আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ জেলেদেরও উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।”

সমুদ্র দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে মাছধরা ট্রলারের ডুবির ঘটনা নতুন নয়। অতীতে বর্ষা ও ঝড় মৌসুমে ট্রলারের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমুদ্রের চলাচল, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং জেলেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলা এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ট্রলার ডুবির কারণে কেবল মানুষের জীবনই ঝুঁকিতে থাকে না, বরং মাছের ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিও প্রভাবিত হয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও সতর্কবার্তা

স্থানীয় প্রশাসন ও কোষ্টগার্ড মিলিতভাবে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য তল্লাশি অব্যাহত রাখছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলেদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রের পূর্বাভাস নিয়মিত মনিটরিং, ট্রলারের অতিরিক্ত ওজন এড়ানো এবং জরুরি রক্ষাকাজের জন্য জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম থাকা জরুরি।


বঙ্গোপসাগরে মাছধরা ট্রলার ডুবি একটি নাজুক ঘটনা। দুই দিন পর ১৪ জন জেলেকে উদ্ধার করা গেলেও ৬ জন এখনও নিখোঁজ। প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রের ঝুঁকি কমাতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য।

এম আর এম – ০৯৬১, Signalbd.com

মন্তব্য করুন
Advertisement

Related Articles

Back to top button